September 26, 2022, 4:23 am

‘কলেজে পড়তে হলে বাধ্যতামূলক ছাত্রলীগ করতে হবে’

‘কলেজে পড়তে হলে বাধ্যতামূলক ছাত্রলীগ করতে হবে’

‘কলেজে পড়তে হলে বাধ্যতামূলক ছাত্রলীগ করতে হবে’

কক্সবাজার কলেজে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার গুণগত মান নিশ্চিত করে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে বাধ্যতামূলক হতে হবে। এমনকি এ কলেজের ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে ছাত্রলীগের পতাকাতলে আনতে না পারলে সিনিয়রদের নেতৃত্ব ছেড়ে দিতে বলেছেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এসএম সাদ্দাম হোসাইন। গতকাল শনিবার (২০ আগস্ট) বেলা ২টায় তাঁর ফেসবুক পেজে এ বক্তব্যের একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে।

এর আগে গত বুধবার (১৭ আগস্ট) ‘২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট বিএনপি-জামাত জোট সরকারের শাসনামলে দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলা’র প্রতিবাদের এক সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এসময় ছাত্রলীগ সভাপতি ক্যাম্পাসে গিয়ে খোদ অধ্যক্ষকে পাশে রেখে এমন ঘোষণা দিয়েছেন। বক্তব্যে কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এসএম সাদ্দাম হোসাইন বলেন, এদেশে স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন। এই কলেজের উন্নয়ন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনিও ছাত্রলীগের নেত্রী ছিলেন। এই সরকার ছাত্রলীগের সরকার। এই কলেজের ক্যাম্পাসে, কলেজের শিরা-উপশিরায় ছাত্রলীগের হক রয়েছে। সুতরাং আপনারা যদি ছাত্রলীগের হকের ওপর দাঁড়িয়ে পড়ালেখা করতে চান তবে কেন ছাত্রলীগ করবেন না। আপনাদের ছাত্রলীগ করতে বাধ্য করতে হবে। এই কলেজের ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দকে আল্টিমেটাম দিয়ে যাচ্ছি, আমরা যদি পরবর্তীতে এসে এই ক্যাম্পাস কানায় কানায় ছাত্রলীগ কর্মী না দেখি তবে আপনাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব।

ইতিমধ্যে গতকাল শনিবার (২০ আগস্ট) সভাপতির বক্তব্যটি ভাইরাল হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বক্তব্যটি অনেকে ইতিবাচক হিসেবে নিতে পারলেও বেশির ভাগ মানুষ নেতিবাচক মন্তব্য করছেন। ফেসবুকে এম ডি মোবিন নামের একজন লিখেছেন, স্বাধীন দেশে স্বাধীন সংগঠন করবে বাধ্যতামূলক কোনো সংগঠন করতে হবে এরকম কোন নিয়ম আছে বাংলাদেশ? রাফসান মাহমুদ সোহেল নামের একজন লিখেছেন, ‘একটা স্বাধীন দেশে এমন বক্তব্য কিছুতেই আপনার মত একজন নেতার মুখে শুভা পাই না। কারো বাবার টাকায় কলজে পড়িনা, নিজের বাবার টাকায় কলেজে পড়ি, কোন দল করবো কোন দল করবো না একান্ত নিজের ব্যক্তিগত ব্যাপার।একটা কথা মনে রাখবেন, জোর করে কখনো ভালোবাসা আদায় করা যায় না।’

আবার অনেকে বক্তব্যকে ইতিবাচক বলে বলেছেন। আনোয়ার হোসেন নামের একজন লিখেছেন,‘আপনার মত একজন সাহসী নেতা বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় জেলায় দরকার ভাই’। কায়সার মাহমুদ জয় নামের একজন লিখেছেন,’একসময় কক্সবাজার সরকারি কলেজে ছাত্রশিবির করা বাধ্যতামূলক ছিল। কতো আওয়ামী পরিবারের সন্তান নির্যাতনের শিকার হয়েছে তা কারো অজানা নয়! সেই কলেজে ছাত্রলীগের পতাকা উড়ুক যুগের পর যুগ।’

এ ব্যাপারে কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এসএম সাদ্দাম হোসাইন গনমাধ্যমে বলেন, কলেজের কিছু সিনিয়র শিক্ষক জামায়াত-শিবিরের রাজনীতিতে শিক্ষার্থীদের প্রভাবিত করতে চাচ্ছে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের তো কোনও স্বাধীনতাবিরোধী রাজনীতির দিকে ধাবিত করা যাবে না। এজন্য আমার ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ যারা আছে তাদের বলেছি শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করে পড়ালেখার পাশাপাশি ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সবাইকে আহ্বান করতে হবে। তিনি আরও বলেন, এটি আমাদের নৈতিক অধিকার। দেশের গর্বিত অংশীদার ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগের রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন হয়েছে। সেই সংগঠনের প্রচার আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© All rights reserved © 2022 BangaliTimesofficel
Design & Developed BY ThemesBazar.Com